Prophet's Name in Quran
কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম: ধারাবাহিক তালিকা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন নবী ও রাসূলের কথা উল্লেখ করেছেন। ইসলামী ঐতিহ্যে কুরআনে নাম উল্লেখিত নবীদের মধ্যে ২৫ জন নবীর নাম বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁরা মানবজাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত, সত্য, ন্যায় ও সৎকর্মের পথে আহ্বান করেছেন।
কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম
-
হযরত আদম (আ.)
তিনি মানবজাতির প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী। আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করে জ্ঞান দান করেন এবং জান্নাতে বসবাসের সুযোগ দেন।
-
হযরত ইদরিস (আ.)
কুরআনে তাঁকে সত্যবাদী ও নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
হযরত নূহ (আ.)
তিনি দীর্ঘ সময় তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন। তাঁর সময়ে মহাপ্লাবনের ঘটনা ঘটে।
-
হযরত হূদ (আ.)
তিনি ‘আদ জাতির কাছে প্রেরিত নবী ছিলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদ গ্রহণের আহ্বান জানান।
-
হযরত সালেহ (আ.)
তিনি সামূদ জাতির কাছে প্রেরিত হন। তাঁর জাতির জন্য উটনী ছিল আল্লাহর একটি বিশেষ নিদর্শন।
-
হযরত ইবরাহিম (আ.)
তিনি তাওহিদের অন্যতম মহান প্রচারক। তাঁকে কুরআনে আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
-
হযরত লূত (আ.)
তিনি তাঁর জাতিকে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছিলেন।
-
হযরত ইসমাইল (আ.)
তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র এবং ধৈর্য ও আনুগত্যের জন্য ইসলামী ঐতিহ্যে বিশেষভাবে সম্মানিত।
-
হযরত ইসহাক (আ.)
তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র এবং হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর পিতা।
-
হযরত ইয়াকুব (আ.)
তিনি ‘ইসরাইল’ নামেও পরিচিত এবং তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকেই বনি ইসরাইলের বহু নবী আগমন করেন।
-
হযরত ইউসুফ (আ.)
কুরআনের সূরা ইউসুফে তাঁর জীবনের বিস্তারিত ও শিক্ষামূলক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
-
হযরত আইয়ুব (আ.)
তিনি কঠিন পরীক্ষার সময় অসাধারণ ধৈর্য ধারণের জন্য প্রসিদ্ধ। তাঁর জীবনে ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।
-
হযরত শুয়াইব (আ.)
তিনি তাঁর জাতিকে প্রতারণা, কম মাপ ও কম ওজন দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
-
হযরত মূসা (আ.)
তিনি বনি ইসরাইলের অন্যতম প্রধান নবী। ফেরাউন ও তাঁর জাতির সঙ্গে তাঁর দাওয়াতের ঘটনা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এসেছে।
-
হযরত হারুন (আ.)
তিনি হযরত মূসা (আ.)-এর ভাই এবং নবী ছিলেন। মূসা (আ.)-এর দাওয়াতের কাজে তিনি তাঁকে সহযোগিতা করেন।
-
হযরত যুল-কিফল (আ.)
কুরআনে তাঁকে ধৈর্যশীল ও সৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আলেমদের মধ্যে তাঁর নবুওয়াত নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
-
হযরত দাউদ (আ.)
তিনি নবী ও রাজা ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে যবুর প্রদান করেন এবং বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।
-
হযরত সুলাইমান (আ.)
তিনি হযরত দাউদ (আ.)-এর পুত্র। আল্লাহ তাঁকে অসাধারণ রাজত্ব, জ্ঞান ও বিশেষ ক্ষমতা দান করেছিলেন।
-
হযরত ইলিয়াস (আ.)
তিনি তাঁর জাতিকে মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানান।
-
হযরত আল-ইয়াসা (আ.)
কুরআনে তাঁকে সৎ ও নির্বাচিত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
হযরত ইউনুস (আ.)
তিনি মাছের পেটে অবস্থানের ঘটনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বিপদের সময় তাঁর দোয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
-
হযরত জাকারিয়া (আ.)
তিনি আল্লাহর কাছে সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর সুসংবাদ দেন।
-
হযরত ইয়াহইয়া (আ.)
তিনি হযরত জাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র। কুরআনে তাঁর পবিত্রতা, তাকওয়া ও চরিত্রের প্রশংসা করা হয়েছে।
-
হযরত ঈসা (আ.)
তিনি হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পুত্র। আল্লাহর অনুমতিতে তিনি বিভিন্ন মু‘জিজা প্রদর্শন করেন এবং বনি ইসরাইলকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন।
-
হযরত মুহাম্মদ (সা.)
তিনি ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
২৫ জন নবীর নাম এক নজরে
| ক্রমিক | নবীর নাম | আরবি নাম |
|---|---|---|
| ১ | আদম (আ.) | آدم |
| ২ | ইদরিস (আ.) | إدريس |
| ৩ | নূহ (আ.) | نوح |
| ৪ | হূদ (আ.) | هود |
| ৫ | সালেহ (আ.) | صالح |
| ৬ | ইবরাহিম (আ.) | إبراهيم |
| ৭ | লূত (আ.) | لوط |
| ৮ | ইসমাইল (আ.) | إسماعيل |
| ৯ | ইসহাক (আ.) | إسحاق |
| ১০ | ইয়াকুব (আ.) | يعقوب |
| ১১ | ইউসুফ (আ.) | يوسف |
| ১২ | আইয়ুব (আ.) | أيوب |
| ১৩ | শুয়াইব (আ.) | شعيب |
| ১৪ | মূসা (আ.) | موسى |
| ১৫ | হারুন (আ.) | هارون |
| ১৬ | যুল-কিফল (আ.) | ذو الكفل |
| ১৭ | দাউদ (আ.) | داود |
| ১৮ | সুলাইমান (আ.) | سليمان |
| ১৯ | ইলিয়াস (আ.) | إلياس |
| ২০ | আল-ইয়াসা (আ.) | اليسع |
| ২১ | ইউনুস (আ.) | يونس |
| ২২ | জাকারিয়া (আ.) | زكريا |
| ২৩ | ইয়াহইয়া (আ.) | يحيى |
| ২৪ | ঈসা (আ.) | عيسى |
| ২৫ | মুহাম্মদ (সা.) | محمد |
নবীদের জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা
কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবন আমাদের জন্য ঈমান, তাওহিদ, ধৈর্য, সত্যবাদিতা, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং সৎকর্মের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। প্রত্যেক নবী নিজ নিজ জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে এবং অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান করেছেন।
তাই নবীদের জীবনী শুধু ইতিহাস জানার বিষয় নয়; বরং তাঁদের শিক্ষা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করাই একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Comments
Post a Comment
Have a question or suggestion? Drop a comment below!
We reply to every genuine comment.
(No spam or links please — they will be removed.)